‘রংতুলির দ্যোতনায়’ - নাইমা হক

কখনো মূর্ত, কখনোবা বিমূর্ত ফর্মে ক্যানভাস রাঙান নাইমা হক। মূূর্ত কিংবা বিমূর্ত ভাবনা প্রতিচ্ছবি তাঁর ক্যানভাসে ধরা দেয় একে অপরের সঙ্গে দুলতে দুলতে। ভালোবাসেন পেন্সিল মিডিয়ার কাজ করতে। তিনি মনে করেন, একজন মানুষ এবং একজন শিল্পী হিসেবে সমাজের নানা ঘটনা-সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য, সংস্কৃতির প্রতি আগ্রাসন, নারীর প্রতি বৈষম্য, নির্যাতন ইত্যাদির প্রতি তাঁর দায় থেকে প্রতিবাদ করেন প্রতীকী ফর্মে। সেই সব চিত্র বাঙ্ময় হয় স্কেচবুক, ক্যানভাসে। তাঁর ব্যতিক্রমী সৃষ্টির মধ্যে জড়িয়ে থাকে সমাজ, জাগতিক, মহাজাগতিক ও আদি-অন্ত ভাবনা। ভিন্ন ভিন্ন ফিগারের ভেতর নতুন মাত্রায় যোগ করেছেন অক্ষর বা বর্ণ। রং, রেখা, বিন্দু বিভাজনের ব্যবহার করেন খুব স্পর্শকাতর জায়গা থেকে। যা তাঁর পারিপাশ্বিক চরিত্র, নিজ দায়, নিজ সময়ের নিজস্ব প্রতিভা থেকে উদ্ভূত। তাঁর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অভিব্যক্তি সমাজে নারীর অবস্থান, নারীর অন্তঃপুরের রহস্য উন্মোচন করে। ব্যঞ্জনাময় হয়ে ওঠে নারী চরিত্র সেপটিপিন, দুমড়ানো-মোচড়ানো কাগজের আঙ্গিক কিংবা সিগারেটের প্রতীকে। তাঁর সৃষ্টির সামনে থমকে দাঁড়াতে হয় ভাবনার পরিসর বিস্তৃত করতে। চেতনায় কড়াঘাত করে শিল্পীর রংতুলির পারস্পরিক দ্যোতনা। নাইমা হকের কাজ মানুষ, জীবন, নিসর্গের বহুরূপ ভঙ্গিমায় নির্মাণ করেছেন শিল্পের নিজস্ব ভাষা।