চিত্রকলার নন্দিত স্থপতি সফিউদ্দিন আহমেদ

বাংলাদেশের চিত্রকলার ইতিহাস গড়ার কারিগর হিসেবে যে কজন শিল্পী আবির্ভূত হয়েছিলেন সেই চল্লিশ দশকের শেষ দিকে, শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ তাঁদের অন্যতম। জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, সফিউদ্দিন আহমেদ, আনোয়ারুল হক এবং পরবর্তীকালে সৈয়দ মোহাম্মদ সুলতান ও মোহাম্মদ কিবরিয়া আমাদের চিত্রকলায় অপরিহার্যভাবে একীভূত হয়েছেন, গড়ে তুলেছেন পঞ্চাশ বছরের বাংলাদেশের চিত্রকলার ভিত্তি। কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্ট থেকে পাস করা অথবা শিক্ষকতা করা এই শিল্পীরা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের অবয়ব এঁকেছিলেন, গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব আঙ্গিকে নিজ দেশের ভিত্তিভূমি। যে ভিত্তিকাঠামো একনিষ্ঠতা, একাগ্রতা আর আদর্শের আবরণে ঢাকা। ১৯৪৮-এ ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত ফাইন আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা আমাদের চিত্রকলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সে সময় যে শ্রম জয়নুল, কামরুল, সফিউদ্দিন আর আনোয়ারুল হক দিয়েছিলেন, তারই ফলে আমরা এক নিঃশ্বাসে আরও পনেরো-বিশজন খ্যাতিমান বাংলাদেশি শিল্পীর নাম বলে ও লিখে যেতে পারি।

একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, শুধু ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠাই মূল বিষয় নয়, তাতে প্রাণসঞ্চারই প্রধান। যে প্রাণে আবেগের সঙ্গে আদর্শ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। আছে আধুনিকতা, আছে এগিয়ে যাওয়ার পথ। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যামিনী রায়ের নতুন ভারতীয় চিত্রকলার বিকাশের অংশীদারও আমাদের এই শিল্পীরা। য়ুরোপ আবর্তিত চিত্রকলার আঙ্গিক থেকে দূরে এসে ঐতিহ্য এবং লোকঐতিহ্য ভারতীয় চিত্রকলায় নতুন মাত্রা যোগ করে আমাদের শিল্পীরা এই প্রবহমান পথে হাঁটতে থাকেন। স্বপ্ন দেখতে থাকেন বাংলাদেশের চিত্রকলার আঙ্গিকের, বিষয়ের ব্যাপ্তির। প্রবীণ এসব শিল্পীর ড্রয়িং এতই নিখুঁত যে রঙের ব্যবহার সহজভাবে লেপ্টে গেছে ক্যানভাসে, অপূর্ব সৃষ্টিশীলতায়।

জয়নুল, কামরুল, সুলতানের কাজ বাংলাদেশের মাটির গন্ধে ভরপুর। কামরুল অথবা সুলতানের পৃথিবী তো লোকঐতিহ্য আর আবহমান বাংলার মানুষকে নিয়ে। বাংলাদেশের চিত্রকলায় প্রথম যে বাঁকের সন্ধান আমাদের দেন, তিনি আর কেউ নন - শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ। এই বাঁকে আধুনিকতার প্রথম আলোর ঝলকানি আমরা দেখতে পাই। পরবর্তীকালে মোহাম্মদ কিবরিয়া এই ধারাবাহিকতারই সন্তান। বাংলাদেশের মাটির গন্ধের সঙ্গে শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ এক পরিশীলিত আধুনিকতার পরশ লাগিয়েছেন। বর্তমান বাংলাদেশের চিত্রকলার অন্যতম স্থপতি পুরুষ শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ (তিনি গত হয়েছেন কয়েক বছর আগে) আমাদের এমন এক স্বপ্নাপ্লুত ভুবনের সন্ধান দিয়েছেন, যে ভুবনে আত্মার সঙ্গে আছে চূড়ান্ত অনুশীলন। সৃজনশীলতার পূর্ণাঙ্গ বহিঃপ্রকাশ। অথবা বলা যেতে পারে, অতৃপ্ত আত্মার চাহিদা মেটাতে শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ চেষ্টার পর চেষ্টা চালিয়েছেন। এনেছেন আধুনিকতার ভিন্ন অবয়ব। গড়ে তুলেছেন তাঁর একান্ত ভাবনার অদেখা এক জগৎ। সেখানে গানের সুরের সঙ্গে স্বপ্নের যোগাযোগ, যোগাযোগ আত্মার সঙ্গে ঝঙ্কারের।

শিল্পী বলেন, ‘আমি ছবির জন্য ছবি আঁকি না, আমি নিজের জন্য ছবি আঁকি। ছবি আঁকতে যেয়ে বারবার মনে হয় কোথায় যেন কী নেই তা চেষ্টা করি খুঁজে বের করতে, পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে।’ অল্প ছবি আঁকেন কেন জিজ্ঞেস করতেই বললেন, ‘কই, প্রায় প্রদর্শনীতে আমি নতুন ছবি দেই। তবে আমার একটা ছবি আঁকতে বহু সময় লেগে যায়। কখনো তিন-চার বছর পর্যন্ত।’ এই ধৈর্য আর একাগ্রতা শুধু শিল্পী সফিউদ্দিনেরই আছে। যিনি দীর্ঘদিন একটি ছবি নিয়ে কাজ করতে পারেন। তাই তো তাঁর সৃষ্টি এমন নিখুঁত প্রাণে ভরপুর। সফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি যখন কলকাতার ছাত্র তখন রাস্তার ধারে সব বিদেশি ম্যাগাজিন ঘেঁটে ঘেঁটে কিনতাম, বাইরে চিত্রকলার প্রায় সবই আমার জানা ছিল। যখন ১৯৫৬-এ লন্ডনে গেলাম, তখন সব গ্যালারি ঘুরে ঘুরে দেখতাম।

শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ আমাদের চিত্রকলায় যে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগিয়েছেন, তা তার অর্জিত আধুুনিকতা। এই আধুনিকতায় সুনিপুণতার স্পর্শ রয়েছে, রয়েছে রঙের প্রতি প্রবল ভালোবাসা। সফিউদ্দিন আহমেদ বললেন, ‘লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরে আমি কপার প্লেটের ওপর কাজ করতে যেয়ে পেলাম ভিন্ন প্লেট, এই প্লেটে হাত বশে আনতে এক বছর লেগে গেল। আসলে এই প্লেটগুলো ছবি আঁকার জন্য নয়, জাহাজের। কিন্তু অন্যগুলোর অনেক দাম। এখন এই প্লেটে কাজ করতে কোনো অসুবিধা হয় না।’ গানের সুর অথবা যেকোনো যন্ত্রসংগীতের সুর শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদকে প্রবলভাবে আলোড়িত করে। তিনি বলেন, ‘সরোদ, বেহালা, এস্রাজ, সেতার - সবগুলো যন্ত্রেরই একেকটি ভিন্ন ধরনের স্ট্রোক আছে। অনুরণনও অন্য রকম। আমার কাজে সুরের এই ঝঙ্কার প্রবলভাবে প্রভাবিত করে। কপার খোদাই করতে যেয়ে এই সুর আমাকে এগিয়ে নিয়ে যায় অথবা থামিয়ে দেয়।’ শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘কালো যে অনেক রকম হতে পারে, তা অনেকে বুঝতে পারে না। ‘কালো রঙের একেকটি ধাপ আছে। আমি সাদা-কালোয় কাজ করেছি।’

সফিউদ্দিন আহমেদ এক রঙে রঙের আবহ সৃষ্টি করেন। কালোর মাঝে কালোকে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করতে পারেন। এই ক্ষমতা ঐশ্বরিক নয়, সাধনারপ্ত। এই সাধনশিল্পী রংকে আপন বশে এনে ছবি এঁকেছেন। এই আঁকা ছবি অমর সৃষ্টির খাতায় নাম লেখাবে, তাতে সন্দেহ কি। শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের সেই শিল্পী, যিনি বরাবরই প্রচারণা থেকে দূরে থেকেছেন। নিভৃতে তৈরি করেছেন নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, নিজস্ব ভঙ্গি, নিজস্ব পৃথিবী। এই পৃথিবীতে একা একা হাঁটতে তাঁর ভালো লাগে। এই ভালো লাগায় অহমিকা নেই, নেই আত্মপ্রচার।

বাংলাদেশের চিত্রকলার ভুবনে সৃজনশীলতার পাশাপাশি শিল্পীদের ব্যক্তিমানস গঠনে অবচেতনভাবে যে দুজন শিল্পী সঞ্চারিত করেছেন ব্যক্তি আদর্শবাদ, তাঁরা হলেন জয়নুল আবেদিন আর সফিউদ্দিন আহমেদ। সফিউদ্দিন আহমেদ বরাবরই একজন আদর্শ শিল্পীর অবয়বের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের শিল্পীদের সৃষ্টিশীলতার পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব গঠনে জয়নুল আর সফিউদ্দিন অনুসরণীয় ছিলেনÑ এ তো বলার অপেক্ষা রাখে না। শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি এখনো ছাত্র, সব সময়ই শিখছি।’ সফিউদ্দিন আহমেদ মূলত ছাপচিত্র এবং তৈলচিত্রের কাজ করে থাকেন।

মিশ্র মাধ্যমেও তাঁর অনেক কাজ। বাংলাদেশের ছাপচিত্রের শিল্পগুরু তিনি। ১৯৩২-৪২ চারুকলা বিষয়ে পড়েন গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্ট কলকাতায়। ১৯৪৬-৪৬ শিক্ষকতা একই স্কুলে। ১৯৫৮-এ এচিং ও এনগ্রেভিংয়ে ডিস্টিংশনসহ ডিপ্লোমা লাভ করেন। সেন্ট্রাল স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস লন্ডন থেকে। সফিউদ্দিন আহমেদ জানালেন, ‘প্রথম ছয় মাস ওরা আমাকে কোনো সিলেবাস দেয়নি। পরবর্তী সময়ে অবশ্য অনেক সম্মান করেছে।’ সেই ১৯৪৮ সালে গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউট, ঢাকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ছাপচিত্র বিভাগের প্রধান ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় ১৯৪৫ সালেই একাডেমি অব ফাইন আর্টস কলকাতার প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল পেয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদক (১৯৮৪) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (১৯৯৬) ভূষিত করে।

শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীদের উত্তরসূরি। তবে তাঁর এই পথযাত্রায় বাংলার আবহ চরিত্র এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য পুরোপরিভাবে স্বতন্ত্র এবং শ্রেষ্ঠ শিল্পীদের আসনে দাঁড় করিয়েছে।

শিল্পীর কাজের সঙ্গে পরিচয় আমার অনেক দিনের। তবে তাঁর কাজ বিক্ষিপ্তভাবেই দেখা হয়েছে। অনেকটা আকস্মিকভাবেই যখন শিল্পী সফিউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর বাসায় যাই এবং একে একে দেখতে থাকি তাঁর সৃষ্টি, তখন মনে হয় এই সৃষ্টিশীলতার স্রষ্টা সকল জাগতিকতা থেকে দূরের এক মানুষ, যাঁর ভাবনার কাছে স্বপ্ন ধরা দেয়, রং এসে আলতো করে বুলিয়ে যায়। মাছগুলো পানি থেকে উঠে এসে বলে, আমরা র্শিল্পীর সৃষ্টি।

মেলার পথে উড এনগ্রেভিংটি ১৯৪৭ সালে করা। সাঁওতাল জীবনের এই নিখুঁত কাজটি শিল্পী সফিউদ্দিন কীভাবে এত অল্প বয়সে করেছিলেন, ভাবতেই অবাক লাগে। উপলব্ধি হয় সেই চল্লিশ দশকের কাজের সঙ্গে বর্তমানের তাঁর কাজের পার্থক্য খুব সামান্যই, অভিজ্ঞতা আর টেকনিক পাল্টেছে মাত্র। মুনশিয়ানা শুরু থেকে আর একই সরলরেখার যাত্রাশীল। কালোতে করা আরও কয়েকটি উড এনগ্রেভিং বাড়ির পথে (১৯৪৫), সাঁওতাল রমণী (১৯৪৬) চূড়ান্ত নিপুণতায় করা কাজ। ড্রাইপয়েন্টে করা দুমকা (১৯৪৫) আর এ্যাকুয়াটিন্টে করা ময়ূরাক্ষী (১৯৪৬) অপূর্ব। ময়ূরাক্ষীর পারসপেকটিভ বিন্যাস এবং আলোর ব্যবহার মনে থাকবে বহুকাল।

শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ একে একে দেখাচ্ছিলেন সফটগ্রাউন্ড ও এ্যাকুয়াটিন্টে করা নেমে যাওয়া বান (১৯৫৯), মাছ ধরার সময় (১৯৬২), বিক্ষুব্ধ মাছ (১৯৬৪), নীল জল (১৯৬৪), ভাসমান জল (১৯৬৬)। নৌকা মাছ আর পানির গতিশীলতা প্রকাশের যে ভাষা শিল্পী সফিউদ্দিন অর্জন করেছেন তা বর্ণনাতীত। বিক্ষুব্ধ মাছের চোখ যেন কথা বলছে, নেমে যাওয়া বান যেন সত্যিই আমাকে পানির সঙ্গে ভাসিয়ে দিয়ে যায়। এনগ্রেভিংয়ে করা গুণ টানায় (১৯৫৮) স্ট্রোক তিনি ব্যবহার করেছেন স্রোতের বিপরীতে, তা উপলব্ধিযোগ্য। কান্নায় (১৯৮০) যে চোখ তিনি এঁকেছেন, সেই চোখ এসেছে একাত্তর স্মরণে (১৯৮৮)। তবে ভিন্ন উপস্থাপনা।

শিল্পী সফিউদ্দিন ফ্রেমে বাঁধাই করা দুটো কাজ নিয়ে এলেন। হলুদ জাল (১৯৫৭) সফটগ্রাউন্ড ও এনগ্রেভিংয়ে করা এত চমৎকার রঙের বিন্যাস ভাবাই যায় না। নিখুঁত এনগ্রেভিংয়ে জাল যেন উঠে এসেছে হাতে। ত্রিমাত্রিকতার আবহে নৌকাটি যেন ভাসছে জলে। পরের কাজটি ‘জলের নিনাদ’ (১৯৮৫) মিশ্রমাধ্যমে করা। আছে এচিং, এনগ্রেভিং, ড্রাই পয়েন্ট, ডিপএচ, সফটগ্রাউন্ড, এ্যাকুয়াটিন্ট। সফিউদ্দিন আহমেদ এ কাজটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন নানা মাধ্যমে। মিশ্র মাধ্যমের এই কাজের স্মৃতি ভাস্বর হয়ে থাকবে মানসপটে। সবুজে করা অন্য এক সবুজের আবহ ছড়িয়েছেন শিল্পী চারপাশে। জলের শব্দ যেন শোনা যায় কান পাতলে।

শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ আমাদের শিল্পীদের মধ্যে প্রবীণতম। ১৯২২ সালে জন্মেছেন এই শিল্পী। এখন সৃষ্টিশীলতায় পুরোপুরি সচল (এখন তিনি আমাদের মাঝে নেই)। শিল্পী বললেন, ‘আমার হাত এখনো কাঁপে না। কাজ করতে যেয়ে, এনগ্রেভিংয়ের কাজ করে যেতে চাই আরও কিছুদিন।’ অদ্ভুত এক মানসিক শক্তি শিল্পীকে উজ্জীবিত করে রেখেছে। আঁকছেন তাঁর নিজ প্রতিকৃতি। শিগগিরই যার প্রিন্ট নেবেন। তেলরঙের কাজগুলোও তাঁর চমৎকার। জ্যামিতি, ফিগার ভেঙে সৃষ্টি করা তাঁর কাজগুলো রঙের প্রক্ষেপণ এবং বিন্যাসে ঋদ্ধ। সফিউদ্দিনের কাজের মূল রঙগুলো কোমল এবং একধরনের রোম্যান্টিকতায় আচ্ছন্ন। চারপাশ থেকে আহরিত বাস্তবতাও তাঁর কাজে এসেছে বহুবার। এ যেন প্রকৃতিকে, মানুষকে নতুন করে আবিষ্কার।

শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের চিত্রকলার ইতিহাস গড়ার অন্যতম পথিকৃৎ কারিগর। তাঁর শ্রম, সাধনা, সৃষ্টিশীলতা আমাদের শ্রদ্ধায় অবনত করে। যে সৃষ্টিশীলতা ধ্যানমগ্ন সাধকের, যে সৃষ্টিশীলতা এক বিরলপ্রজ শিল্পীর।