‘কালারস’

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে শেষ হয়ে গেল ‘কালারস’ শিরোনামের শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। প্রদর্শনী চলেছিল ৯ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী ১৪ জন শিল্পীই হলো বন্ধু। তাঁরা একসঙ্গে চারুকলা থেকে বিভিন্ন বিষয়ে পাস করার পর সবাই বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত আছেন। সাংসারিক জীবনে প্রবেশের পর তাঁদের অনেকেরই শিল্পচর্চায় ভাটা পড়ে। হারিয়ে যায় শিক্ষাজীবনের সেই উদ্যমতা। সংসারের ফাঁকফোকরে লেগে থাকে তাদের শিল্পিত্ব, সংসার হয়ে ওঠে তাঁদের ক্যানভাস। অনেক দিন পর তারা আবার শিল্পের সন্ধানে একসঙ্গে হাঁটতে শুরু করেন।

শিল্পের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তাদের বারবার জুগিয়েছে শক্তি, যার পরিণতিতে এদের কেউ কেউ তুলে নিয়েছে ক্যানভাস, রংতুলি, ভাস্কর্য তৈরির যন্ত্রপাতি, কারুশিল্পের কাঠ ও মৃৎশিল্পের উপাদান মাটি।

এটি তাদের দ্বিতীয় প্রদর্শনী। প্রথম প্রদর্শনীতে তারা ১৩ জন বন্ধু মিলে উদ্যোগী হয়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে তাদের এই উদ্যোগের পরিসর বেড়েছে। অনেক দিনের চর্চাহীনতার জং ছাড়িয়ে নিতে তাদের মধ্যে যে জড়তা ছিল, তা আজ আর নেই। এই দ্বিতীয় প্রদর্শনীটি তাদের সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।

এই প্রদর্শনীতে অনেক মাধ্যমের শিল্পকর্ম দেখা যায়। যেমন চিত্রকর্ম রয়েছে তেমনই রয়েছে ভাস্কর্য, মৃৎশিল্প ও কারুশিল্প। শিল্পীরা প্রত্যেকে একটি-দুটি কাজ দিয়ে ভরিয়ে তুলেছিলেন গ্যালারি।

চিত্রকর্মগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ দেখা যায় অ্যাক্রিলিক রঙে আঁকা। বিমূর্ত ধারা, নারীবাদ, ল্যান্ডস্কেপের বিষয় ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পীরা। তাঁরা চিত্রকর্মগুলোতে আবেগঘন রং ব্যবহার করেছেন সজ্ঞানে, যা শিল্পীর অনুভূতির সঙ্গে দর্শকের অনুভূতির মেলবন্ধন ঘটাচ্ছে। ব্যবহƒত এসব রং দ্বারা তৈরি পথে একজন দর্শককে শিল্পী তাঁর নিজস্ব পথে হাঁটতে অনুপ্রাণিত করছে।

পোড়ামাটির ভাস্কর্যগুলোতে শিল্পীরা নানা রকম দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। দৃশ্যগুলো দেখলে মনে হয় শিল্পীর বিভিন্ন স্মৃতির প্রতিফলন এগুলো। এসব তৈরি করতে পোড়ামাটির বিভিন্ন রকম ফর্ম সৃষ্টি করেছেন শিল্পী, যা শিল্পকর্মগুলোকে নান্দনিকতা দান করেছে।

এই প্রদর্শনীর শিল্পীদের প্রথম সফলতা হলো তারা অনেক দিন পর, অনেক বাধা পেরিয়ে তাদের নিজেকে খুঁজে পাওয়া, নিজের ধারায় ফিরে আসা। এই আত্মবিশ্বাস তাদের সব শিল্পকর্মকে ছাপিয়ে গেছে। সাংসারিক নানা রকম কাজকর্মের পাশাপাশি শিল্পীমনের প্রকাশে তাঁরা বেশ সাহসী হয়ে উঠেছেন। এই সাহসিকতা তাঁদের সবচেয়ে বড় অর্জন।

‘কালারস’ প্রদর্শনীর শিল্পীরা চারুকলার ১৯৮৯-৯০ সেশনের শিক্ষার্থী। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই তাদের প্রথম প্রদর্শনী শেষ হয়। এরপর থেকে তাঁরা নিয়মিত শিল্পচর্চায় মগ্ন হয়ে ওঠেন। তাঁদের এই নতুন যাত্রা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার জায়গায় পরিণত হয়েছে। ইচ্ছা, সততা ও আন্তরিকতা থাকলে যেকোনো কাজই সহজ হয়ে যায়।

প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী ১৪ শিল্পী হলেন: ফারহানা আফরোজ বাপ্পী, ফারজানা ইসলাম মিল্কি, কানিজ সোহানী ইসলাম, মণিদীপা দাসগুপ্ত, মুক্তি ভৌমিক, মর্জিয়া সুমি, মনিরা সুলতানা মুক্তা, শায়লা আক্তার, মোর্শদিদা হক বকুল, নিশাত চৌধুরী জুঁই, রেহানা ইয়াসমিন শীলা, রেবেকা সুলতানা, রিফাত জাহান কান্তা, সুকন্যা আয়িন।