রূপসী বাংলা

বাংলার অপরূপ প্রকৃতির বিচিত্র রূপ নিয়ে আমাদের প্রধান শিল্পীরা অসংখ্য ছবি এঁকেছেন। নবীনেরাও আঁকছেন। প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের চিত্রপটেও আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলা প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনা। সম্প্রতি শিল্পী মোখলেসুর রহমানের একক চিত্র প্রদর্শনীতে আবার আমরা বাংলাদেশের রূপলাবণ্যের মাধুর্যকে নতুন করে উপলব্ধি করলাম।

গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত দুই সপ্তাহব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকার ধানমন্ডিতে সমকালীন চিত্রশালা শিল্পাঙ্গনে। এটি তাঁর অষ্টম একক চিত্র প্রদর্শনী। এতে শিল্পীর প্রায় অর্ধশত চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে, যেগুলোর বেশির ভাগ কাজ দু-তিন বছরে আঁকা। শিল্পী কাজ করেছেন প্রধানত মিশ্রমাধ্যমে ও কাঠখোদাই ছাপচিত্র মাধ্যমে। ক্যানভাসেও তিনি কাঠখোদাই ছাপ নিয়েছেন। এটি নতুন ধরনের নিরীক্ষা। আরেক নিরীক্ষায় ছাপা কাগজ ও ছাপার কাঠ একসঙ্গে ফ্রেম করে এই শিল্পী ২০০১ সালে দশম এশীয় দ্বিবার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনীতে গ্র্যান্ড পুরস্কার পেয়েছিলেন।

শিল্পী মোখলেসুর রহমান গ্রামের সন্তান। মেধাবী এবং কঠোর পরিশ্রমী। নদীবিধৌত শরীয়তপুরের শস্যক্ষেত্রের উদার পটভূমি ও বৃক্ষশোভিত ছায়াঘেরা মায়াময় পরিবেশে তাঁর জন্ম, ১৯৬১ সালে। তাঁর ছবিতে আমরা তাঁর গ্রামের সেই মধুর পরিবেশের ব্যঞ্জনা পেয়ে যাই। প্রসঙ্গক্রমে মনে পড়ল রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশকে। বরিশালের নদী-খালের মধুর পরিবেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠায় প্রকৃতিকে নিবিড়ভাবে পাঠ করে অসামান্য এক কবি হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সেই সৌন্দর্যচেতনা যেন চিত্রকলায় অনুবাদ করেছেন শিল্পী মোখলেসুর রহমান।

বিশাল মাঠের ফাঁকায় চরাচরে আঁকাবাঁকা নদীর বিস্তার। তাতে কত পালতোলা, ডিঙি ও গয়না নৌকার চলাচল। ওপরে ভারী নীল আকাশ, নিচে লতাগুল্মময় সবুজ জীবন। শিল্পী এ চিত্রের শিরোনাম দিয়েছেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জননন্দিত গান - ধনধান্য পুষ্পভরা। এটি তাঁর অত্যন্ত পছন্দের গান। মাঝে মাঝেই গুনগুন করে গেয়ে ওঠেন। যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে বাংলা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য।

মিশ্রমাধ্যম ছাড়াও কাঠখোদাই ছাপাইতে বেশ কটি দৃষ্টিনন্দন ছবি এঁকেছেন। প্রকৃতির সৌন্দর্যের দারুণ সব বিষয় ও ফর্ম নিয়ে তিনি কাজ করে নিজের ভালো লাগাকে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন শিল্পানুরাগী দর্শকদের মাঝে।