বটমূলে বর্ষবরণ ও নববর্ষের নগর সংস্কৃতি

প্রাক্কথন : বাঙালির বর্ষবরণ

বাঙালি সংস্কৃতি চেতনার পরম্পরায় প্রবহমান। এর বিকাশ প্রয়োগে, আচরণে। সাংস্কৃতিক এই বিশালত্বের গভীরতর গভীরে বর্ষবরণও আছে। নতুন বর্ষকে বরণ করে নেওয়ার যে সুকোমল বৃত্তি বঙ্গীয় সন্তানদের মনস্তত্ত্বে কাজ করে আসছে, তার ইতিহাস দীর্ঘ। বং থেকে বাংলার আদি সন্তানে সাহসের রক্তবীজ বপন করে আসছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। তারা কৃষিতে সুনিপুুণ, শিল্পকলায় সমৃদ্ধ। সংগঠিত সংগ্রামে। তাই বাঙালির সাংস্কৃতিক গ-িকে কি মাত্র অল্প কয়েকটি দাগে ছক কেটে ফেলা যায়? তবে সাধারণ ভাবে একথা বলা চলে, ঋতুচক্রে বাঁধা প্রকৃতির কৃষক সন্তান এ দেশের মানুষের কাছে নববর্ষ নতুন কোনো সাংস্কৃতিক ব্যাপার নয়। শুধু প্রকাশে ও অবয়বে পাল্টে গেছে এর আকৃতিগত দিক। বাধা দিলে বেড়ে যায় যেমন জলের গতি, পাল্টে যায় স্রোতের রূপ, তেমনি বিভিন্ন পারিপার্শ্বিকতার চাপে ও বিরুদ্ধতায় ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে এর আয়োজনে। এমনি এক পর্যায়ে বর্ষবরণ হয়ে উঠেছে নগর-সংস্কৃতির অংশ।

রাষ্ট্র, জাতি বা সাংস্কৃতিক জাতি, যেভাবেই বিচার করা হোক না কেন, নববর্ষ বাঙালির একটি জাতীয় উৎসব। এ উৎসব ধর্ম ও সম্প্রদায়-নির্ভর কোনো অনুষ্ঠান নয়। তা সর্বস্তরের বাঙালির জাতীয় উৎসব। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-সীমান্ত অতিক্রম করে সব বাঙালির প্রাণের উৎসব। এ উৎসবের মর্মবাণী একই : নতুন বছরে আমাদের আনন্দটুকু সবার আনন্দ হোক, আমাদের শুভটুকু সকলের শুভ হয়ে উঠুক। সবার সঙ্গে বন্ধন হোক দৃঢ়, সম্পর্ক হোক প্রীতিময়।

নাগরিক নববর্ষ : উৎস যার সংগ্রামে

বাংলাদেশে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নববর্ষ শুধু বাঙালিদেরই উৎসব হিসেবে এক বিশেষ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাঙালিত্বের প্রতি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ছিল তীব্র আক্রোশ। তাই বাঙালি সংস্কৃতির আবহমান স্রোতকে তারা নানা ষড়যন্ত্রে রুদ্ধ করতে চেয়েছে। পাক-শাসকেরা ও তাদের দোসরেরা বাংলা নববর্ষকে হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালাত সে সময়। তাদের এ অপচেষ্টা সফল হয়নি। একুশে ফেব্রুয়ারির মতোই নববর্ষের চেতনাগত দিক বিকশিত হতে থাকে দিগন্ত থেকে দিগন্তে। যদিও ‘নববর্ষ হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি’র অপপ্রচারের এ ধারা ক্ষীণভাবে হলেও এখনো প্রবহমান।

এখন নববর্ষ শহুরে মধ্যবিত্তের জীবনে ভিন্ন আঙ্গিকে পালিত হচ্ছে। এটি এখন যন্ত্রযুগের মানুষের মিলনমেলা। বড় বড় শহরে মঞ্চ, শোভাযাত্রা, গ্রামীণ খেলাধুলা, আবৃত্তি-অনুষ্ঠান, সঙ্গীতের আসরে সাধারণ মুখরিত হয়ে ওঠে। বাংলা একাডেমির পালা, বৈশাখের মেলা, রমনার বটমূলের অনুষ্ঠান, চট্টগ্রামে বাটালি হিল পার্কে নববর্ষ উদ্যাপন এখন আর শুধু বিনোদন নয়, বর্ষবরণের নতুন ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইংরেজি নববর্ষের মতো এখন অনেকেই বাংলা নববর্ষে শুভেচ্ছাবার্তা বিনিময় করে থাকে। প্রিয়জনকে দিয়ে থাকে কার্ড, ফুল। নববর্ষে নতুন তাঁতের শাড়ি, পাঞ্জাবি, বেলী ও গোলাপ ফুলের প্রাধান্যও ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে অনিবার্য। প্রথমে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, অন্ধ অনুকরণের বলয় ভেদ করে বেরিয়ে আসার এ সংস্কৃতির তাৎপর্য তাই সামান্য নয়। তবে এখনকার নববর্ষ উদ্যাপন, আগের দিনের মাটিসংলগ্ন মানুষের মতো করে হয় না। সেখানে শহুরে জীবনাচরণের সঙ্গে গ্রামীণ জীবনাচরণ যোগে নববর্ষ উদ্যাপন এখন একটি আধুনিক উৎসবের রূপ পেয়েছে।

রমনার বটমূল : আয় তবে সহচরী...

প্রাকৃতিক উৎসব উদ্যাপনের দৃষ্টান্ত শান্তিনিকেতনে প্রবর্তন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ষাটের দশকের মাঝামাঝি পাক-শাসন যখন রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, তখন থেকে ‘ছায়ানট’ বেশ সাহসের সঙ্গে উদ্যাপন করে আসছে। ছায়ানটের বর্ষবরণের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের প্রাকৃতিক উৎসবের মেটালিক পার্থক্য এই প্রতিবাদী চেতনাগত ক্ষেত্রে। রবীন্দ্রনাথ প্রাকৃতিক উৎসবকে আশ্রমকেন্দ্রিক করেছিলেন। কিন্তু বটমূলের নববর্ষ উৎসব সে সীমাকে ছাড়িয়ে হয়েছে আরও বিস্তৃত। ’৫২-র ভাষার লড়াই, ’৬২-র শিক্ষা-আন্দোলন, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বটমূলকেন্দ্রিক প্রাকৃতিক উৎসব গণতান্ত্রিক সংগ্রামী চেতনায় শাণিত হয়ে উঠেছে। মানুষের এক সামাজিক উৎসবে রূপ নিয়েছে।

তবে রাবীন্দ্রিক নববর্ষের সঙ্গে রমনার নববর্ষের যে মূলমন্ত্র এক সুরে গাঁথা, সে সুরটি হলো - এর সর্বজনীন চেতনাগত দিক।

প্রথম থেকে নববর্ষ ঘটা করে উদ্যাপনের আয়োজন প্রতিবাদী ছিল না। ব্রিটিশবিরোধী রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতি সাংস্কৃতিক সংগ্রামের সমর্থন নববর্ষকে নতুন গতিশীলতা দেয়। এক বর্ষ আরেক বর্ষে পা দেওয়ার সাহসের সঙ্গে যুক্ত হয় সংগ্রামী চেতনা।

ষাটের দশকের রমনা গ্রিনের বটতলায় যে প্রভাতী সাংস্কৃতিক উৎসবের সূচনা হয় তার প্রেক্ষাপটে ছিল সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক আগ্রাসী মনোভাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী সংগ্রামের চেতনা। এ দেশের মানুষের গণতন্ত্র, ভাষা-সংস্কৃতি-কৃষ্টি রক্ষা ও তার বিকাশের সাংস্কৃতিক সংগ্রাম তাই রমনার বটগাছকেন্দ্রিক প্রাকৃতিক উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হয়। আর এভাবেই এ প্রাকৃতিক উৎসব বাংলাদেশের সামাজিক উৎসবের মাত্রায় এসে সমাজ পরিবর্তনের প্রচ্ছন্ন আকাক্সক্ষায় উদ্দীপিত হয়। অস্তিত্বের যে সংগ্রাম অনিবার্য, স্বাধীনতার পরে যুদ্ধের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নববর্ষকে আরও শাণিত করে। তাই এর বাহ্য রূপ সামাজিক উৎসবের নাগরিক মিলনমেলা হলেও এর ভেতরে মুক্তিসংগ্রামের চেতনা প্রচ্ছন্নভাবে এখনো কাজ করে যায়। বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় - মুক্তিযুদ্ধের শেষ নেই।

তাই ঘন বটপাতার নিচে ঊষালগ্নের বর্ষবন্দনা-সঙ্গীত ও আবৃত্তি ঘণ্টা দুয়েকের জন্য সমবেত হওয়া কতিপয় মানুষের অঙ্গীকার প্রথম থেকেই সামান্য ছিল না, এখনো সামান্য নেই। সব মিলিয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শুদ্ধতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে রমনার বর্ষবরণ এখন একটি শক্তিশালী যূথবদ্ধ আয়োজন।

রবীন্দ্রনাথকে যে সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল, সে সময়ে রবীন্দ্রনাথকে ভালোবেসেই ‘ছায়ানট’-এর জন্ম। কলিম শরাফী, সন্জীদা খাতুন, ওয়াহিদুল হক প্রমুখ উদ্যোগ নেন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নববর্ষ উদ্যাপনের। রমনার বটমূলের সেই নববর্ষ উদ্যাপনের নিষিদ্ধ ‘হিন্দুয়ানি’ লাল টিপ, সাদা শাড়ি-লাল পাড়, বেলী ফুলের মালা, খোঁপায় রক্তগোলাপ, পাজামা-পাঞ্জাবি চটি অনিবার্য হয়ে ওঠে। রবীন্দ্র-জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে রমনার বটমূলে নববর্ষ আরও মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়ায়।

শান্তিনিকেতনী আদলের বাইরে যূথবদ্ধ ঢুলির ঢ্যাম-কুড়া-কুড় ঢোলের বোল, বাঁশি, খোল-করতাল, মৃদঙ্গ বাদ্য, বিশালাকৃতির কাগুজে হাতি, ঘোড়া, বাঘ-বক, প্রতিকৃতি। নানা রঙের মুখোশ-মুকুট, ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়ি, কুঁড়েঘর, নব-বধূ-বর, পালকি, সাধু ইত্যাদি বেশভূষা সহ নগরীর রাজপথে প্রভাতী শোভাযাত্রা রমনার পাশাপাশি নববর্ষের নতুন সংযোজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছেলেমেয়েরা দিন-রাত পরিশ্রম করে এসব আয়োজন করেন। রাজপথে আঁকেন বিশালাকৃতির আলপনা। আর রমনার বটমূলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি চারুকলার বকুলতলায় আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

বাংলা একাডেমির নিজস্ব আঙিনার বটতলায় আয়োজন করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। তাদের উদ্যোগে গ্রামীণ কুটিরশিল্প, ছোট ছেলেমেয়েদের জন্য হাতে তৈরি বিভিন্ন খেলনা, নিত্যব্যবহার্য জিনিস, শৌখিন পণ্য ইত্যাদির সমন্বয়ে কয়েক বছর হলো নিয়মিত বৈশাখী মেলার আয়োজন হয়ে আসছে।

শিশু একাডেমীও সম্প্রতি বৈশাখী মেলার আয়োজন করছে। নগরবাসীর জন্য আজ এ মেলা বাংলা নববর্ষের অন্যতম আয়োজন। রকমারি পণ্যের বিকিকিনি ছাড়াও ব্যস্ত শহুরে মানুষের কাছে গ্রাম-বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি আর সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের ব্যপক প্রকাশ ঘটে।

তবে ইদানীং বখাটেদের উৎপাত নববর্ষের আয়োজনে কখনো কখনো বাড়তি উপসর্গ হয়ে দেখা দিচ্ছে বটে।

বটমৌলিক নববর্ষ : গন্তব্য কোথায়?

গত তিন দশকে ঊষালগ্নের সঙ্গে সঙ্গে ছায়ানটের রমনার বটমূলের প্রভাতী আয়োজন বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ আয়োজন ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে এক নগরের দুয়ার থেকে আরেক নগরে। একমাত্র একুশে ফেব্রুয়ারি ছাড়া পুরো বছরে আর কখনোই এমন জনমানুষের সমাগম ঘটে না। গান, আবৃত্তি, ঢাকের আওয়াজ, ঘূর্ণমান নগরদোলার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ। হাস্যোজ্জ্বল শিশুর হাতে উড়ন্ত বেলুন। কুশল বিনিময়ে উৎসবপ্রান্তর মুখরিত হয়ে ওঠে। সকলে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে নববর্ষের শুভক্ষণটির জন্য।

সংবাদপত্রের পাতায় নববর্ষ হয়ে ওঠে রঙিন। পুরোনো বছরের অন্তগামী সূর্যের প্রেক্ষাপট গ্রামীণ জীবনের স্থির চিত্র, বর্ধিত কলেবরে বিশেষ সংখ্যা, ঝকঝকে ছাপায় নতুন বর্ষপঞ্জি ইত্যাদি আয়োজনে সংবাদপত্র বাংলা বছরের প্রথম দিনে হয়ে ওঠে আকর্ষণীয়। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের শ্রম মেধা-ঘাম ঝরে অন্য দিনের তুলনায় স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

রমনার বটমূলকেন্দ্রিক বড় ধরনের আয়োজন নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়। এই অনুষ্ঠানের ভেতর দিয়ে নিজেদের জাতিসত্তার বোধসমূহকে উসকে দেওয়া হয়। নিত্য বৃত্তাবদ্ধ কাজের চাপে যাঁরা ভুলতে বসেছেন তাঁদের বাঙালিত্ব, অনুষ্ঠান আর খৈ-মুড়ি-চিড়া-মুড়কির বিন্যাসে তাঁরা নিজস্ব চেতনার উৎসমুখে ফিরে যায় আরেকবার। মানুষ ফিরে যায় সেই আদি মানুষের কাছে। যারা হাজার হাজার বছর আগে প্রথম এই বঙ্গে বাঁধ দিয়ে শাসন করেছিল বেপরোয়া নদী, যারা বনভূমি পরিষ্কার করে বর্ধিত করেছিল ভুঁই, উল্লসিত হয়েছিল নব পলিমাটি ভেদ করে কচি শস্যের আগমনে। শিঙ্গা ফুঁকেছিল পাকা ফসলের ঘ্রাণে। ঢাক-নৃত্যে করেছিল নতুন ধানের উৎসব।

নববর্ষের বটমূলের অনুষ্ঠানে পাওয়া যায় প্রতিবাদ-প্রতিরোধ-প্রতিশোধের শক্তিও। ঔপনিবেশিক পাক-ঔপনিবেশিক শাসন আর নেই। বর্গি, জমিদার গত হয়েছে সেই কবে। তবু কঙ্কালসার গরুর, লজ্জিত আমিনার দীর্ঘশ্বাস-চাপা কান্নায় এ দেশের বাতাস এখনো ভারী। এখনো বেয়নেট কল্পকে আদিষ্ট করে প্রায়ই। বুটের নিচে পিষ্ট হয়ে যায় সংবিধান। এখনো গণতন্ত্রের জন্য রক্ত ঝরে। ইজ্জতের প্রশ্নে লাশ হয়ে যায় ইয়াসমিন, সীমা চৌধুরী। পাহাড়ি মেয়ে কল্পনা চাকমা শেষ পর্যন্ত নিখোঁজই থেকে যায়। চাল, ডাল, তেল, নুনের নিত্য সঙ্কট ছড়িয়ে উঠে সব কিছুকে।

অতএব

রমনার বটমূলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান যখন আমাদের নগরসংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়, সেই মঙ্গলপ্রভাতে দৃঢ়ভাবে স্মরণ করি - আমি মনেপ্রাণে একজন বাঙালি। আমার জাতিসত্তা আমার গৌরব। আমার ঐতিহ্য আমার অহঙ্কার যার ওপর ভর করে আমি দাঁড়াই। আর আমি ভালোবাসি আমার দেশকে সকল মঙ্গলসঙ্গীত, কাব্য নিবেদিত হোক আমার দেশের জন্য। দেশের মানুষের জন্য। তবেই না যুগ যুগ সুস্বাস্থ্য নিয়ে বাঁচবে আমার সংস্কৃতি। তাই নববর্ষের প্রথম সকালে এক সেকেন্ডের লক্ষ ভাগের এক মুহূর্তের জন্য হলেও অভাব বোধ হয় একজন নেতার - যাঁর নেতৃত্ব, দিক নির্দেশিত তর্জনী বলে দেবে কী করতে হবে। সঙ্কটের ছিন্ন হবে কোন পথে। ছায়ানটের সকালে অনাগত ভবিষ্যৎকে বরণ করে নেওয়ার, দিন বদলে দেওয়ার প্রত্যয়ে সকলেরই উচ্চারণ মিশে যায় একক উচ্চারণে : হে রুদ্র, বৈশাখের প্রথম দিনে আমি তোমাকেই প্রণাম করি।