শিল্পী তাজউদ্দীন আহমেদের সাক্ষাৎকার

শিল্পী তাজউদ্দীন আহমেদ

বাংলাদেশের চিত্রকলা জগতের বিশিষ্ট শিল্পী তাজউদ্দীন আহমেদ সম্প্রতি শিল্পপ্রভার মুখোমুখি হয়েছিলেন।
বর্তমানে শিল্পী তাজউদ্দীন কানাডাতে বাস করছেন। তাঁর শিল্পচর্চা নিরন্তরভাবে অব্যাহত রয়েছে কানাডা এবং বাংলাদেশে। চিত্রকলার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিল্পী তাজউদ্দীন এখন পরিচিত নাম। বাংলাদেশের চিত্রকলাকে তিনি আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চান। আটলান্টিকের ওপারে থেকেও দেশের প্রতি অসীম ভালোবাসার টান অনুভব করেন। তাই তাঁর কণ্ঠস্বরে শুনি শিল্পীহৃদয়ের অমল উচ্চারণ, ‘বাংলাদেশের মাটির গন্ধ আমি আর কোথাও পাই না...’ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: মুন রহমান

শিল্পপ্রভা: কেমন আছেন?
তাজউদ্দীন: ভালো আছি। চারপাশে তরুণ শিল্পীরা কাজ করছে দেখে ভালো লাগে।

শিল্পপ্রভা: এখনকার তরুণ শিল্পীদের কাজ দেখে কেমন মনে হয়?
তাজউদ্দীন: শিল্পীদের একটা ব্যাপার হলো নিয়মিত কাজ করতে হবে। অনেকেই হয়তো স্টুডেন্ট লাইফে তেমন কোনো কাজ করেনি, কিন্তু এখন একটা পর্যায়ে চলে গেছে। আবার এমনও আছে, আগে অনেক ভালো কাজ করেছে কিন্তু এখন আর তেমন ছবি আঁকে না। তো এর অর্থটা হলো যে তুমি যত কাজ করবা, তত এগিয়ে থাকবা। তোমার ভেতরে সাহস থাকতে হবে।

শিল্পপ্রভা: আপনি একটি ছবি আঁকার জন্য নিজেকে কেমন করে তৈরি করেন?
তাজউদ্দীন: একটা কথা আমি সবাইকেই বলি, ছবি আঁকতে হলে, ছবির ভেতরে ঢুকতে হলে নিয়মিত তার কাছাকাছি থাকতে হবে। আমাদের হার্ট যেমন আমাদের ভেতরে থাকে ঠিক তেমন। আমি হয়তো যা আঁকব, মনে মনে তা একটু সাজিয়ে নিই। তবে বেশির ভাগ ধারণাই আসে আমার ছবি আঁকতে বসে। কোথায় কোন ড্রয়িং দেব, কী রং চাপাব, তা আঁকতে বসে ঠিক করি। আমার ছবি স্ক্যান করলে দেখা যাবে অসংখ্য রঙের পরত, অসংখ্য ড্রয়িং। যতক্ষণ না পর্যন্ত একটি ছবি এঁকে আমার মন ভরছে, ততক্ষণ আমি ওই ছবিটি শেষ করি না। হয়তো অনেক ড্রয়িং করি, মুছে ফেলি, রং পাল্টে দিই। তবু ছবিটি ছাড়ি না। ছবিকে মায়া করতে হবে, তবেই ছবি রেসপন্স করবে। নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসতে হবে।

শিল্পপ্রভা: আসলে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং দরকারি কথা।
তাজউদ্দীন: আরেকটা বিষয় হলো, সব সময় শেখার মানসিকতা থাকতে হবে। আমাকে যদি কেউ বলে যে তাজউদ্দীন তোমার এই জায়গাটা একটু ডিস্টার্ব করছে। আমি তখন দ্বিতীয়বার ভাবি। আমার কাছেও তাই মনে হলে পরিবর্তন আনি কিছুটা।

শিল্পপ্রভা: এখন কী ধরনের কাজ করছেন?
তাজউদ্দীন: বরাবরের মতোই কাজ করি আমি। তবে চেষ্টা করি রং নিয়ে নিরীক্ষামূলক কিছু কাজ করার। নীলের প্রতি আমার বিশেষ দুর্বলতা কাজ করে। আগেও ছিল, তবে এখন নীলের সঙ্গে হলুদ রংটা নিয়ে বেশ কিছু কাজ করছি। বিশেষ করে পিকক ব্লু, সবুজ- এই রংগুলো নিয়েই ভাবছি, কাজ করছি। করে যাচ্ছি আরকি। একটু আগে যেটা বললাম, শেখার কোনো শেষ নেই। আরও শিখছি।

শিল্পী তাজউদ্দীন আহমেদ: কম্পোজিশন-১, তেলরং / ২০০২, সৌজন্যে: বাংলাদেশ আর্ট বুক

শিল্পপ্রভা: আপনার শৈশব কেটেছে পুরান ঢাকায়। পুরান ঢাকার স্মৃতিগুলো কেমন করে আসে আপনার কাজে?
তাজউদ্দীন: পুরান ঢাকা নিয়ে আমি এখনো ইন্টারেস্টেড। ওখানকার পরিবেশ নিয়ে, বিল্ডিংয়ের ফর্ম ভেঙে ভেঙে কিছু কাজ করছি। ওই ট্র্যাডিশনটা রেখেছি আমার কাজে। ওটা তো ভোলা সম্ভব নয়। কানাডা হোক, বাংলাদেশ হোক- এই টানটা তো থাকবেই। কানাডায় আছি আমি প্রায় ৯ বছর। কিন্তু বাংলাদেশের এই মাটির গন্ধ তো আমি কোথাও পাব না। দেশের বাইরে গেলে বিমানবন্দরে নামার পর যে ভালো লাগাটা কাজ করে, তা তো আর কোথাও পাওয়া যায় না। পুরান ঢাকার জন্যও আমার তেমন একটা অনুভূতি কাজ করে।

শিল্পপ্রভা: আরেকটা ব্যাপার আছে, পুরান ঢাকায় কাজ করেননি, এমন শিল্পী নেই আমাদের দেশে। এমনকি দেশের বাইরে থেকে কেউ এলে তারাও পুরান ঢাকা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হন। আমাদের অনেক শিল্পী আছেন, যারা পুরান ঢাকাতেই বেড়ে উঠেছেন। আমার মনে হয় এখানে এমন কিছু একটা আছে, যা আমাদের শৈল্পিক মন গঠনে সাহায্য করে। আপনার ক্ষেত্রে এই টানটা কীভাবে অনুভব করেন?
তাজউদ্দীন: আমি পুরান ঢাকা থেকে রোজ এসে এসে আর্ট কলেজে পড়তাম। তখনকার সময়ে যাঁরা শিক্ষক ছিলেন, ছাত্র ছিলেন তাঁরা প্রত্যেকে শাঁখারীবাজার, সদরঘাট, সোয়ারীঘাট এসে ল্যান্ডস্কেপ করতেন। আমি মনে করি, পুরান ঢাকার মানুষের যে মনমানসিকতা, ওটাই সব থেকে বেশি আকর্ষণ করে আমাকে। এমন উদার খোলা মন এদিকে কোথাও পাওয়া যাবে না। কী আশ্চর্য! কী সাংঘাতিক! কেউ যদি মারা যায় আর কেউ যদি তাঁকে না-ও চেনে, তবু কোথা থেকে দু-চার-পাঁচ শ লোক চলে আসবে। তারাই সবকিছু অ্যারেঞ্জ করবে। কিন্তু এদিকে নতুন ঢাকায় তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। কেউ মারা গেলে হয়তো পাশের ফ্ল্যাটেই জানবে না। বিদেশেও তাই। ধরো, পুরান ঢাকার ট্র্যাডিশনাল খাবারদাবার তো আছেই। তুমি কারও বাসায় গেলে তোমাকে লাঞ্চ বা ডিনারে ডাকবে, দশ-বারো রকম খাবার দিয়ে তোমাকে আপ্যায়ন করবে। পুরান ঢাকার লাইফস্টাইলে একটা আলাদা কায়দা আছে। তার আবার অনেক রং। শাঁখারীবাজারে এত ছোট ছোট গলিতে কী হইহুল্লোড় করে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়। অনেক বিদেশি অতিথি ও কূটনীতিকেরা দল বেঁধে সেখানে যান। এমন আরও অনেক উৎসব আয়োজনের কথা বলা যায়। ওখানকার মানুষের লাইফস্টাইলই অনেক বেশি শিল্পিত। তাই সেখানে আলাদা করে আর কোনো উপাদান খুঁজতে হয় না। ওখানে একই স্পটে বসে একাধিক সাবজেক্টের ওপর ছবি আঁকা সম্ভব।

শিল্পপ্রভা: আপনার শিক্ষক কারা ছিলেন? তাঁদের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক কেমন ছিল?
তাজউদ্দীন: রফিকুন নবী স্যার, বাসেত স্যার, কিবরিয়া স্যার ছিলেন আমার শিক্ষক। আমার সব থেকে প্রিয় শিক্ষক ছিলেন কিবরিয়া স্যার। আমার প্রথম সলো শোতে স্যার ছিলেন। সেকেন্ড শোতেও স্যার ছিলেন।

শিল্পপ্রভা: এখন যেসব নবীন শিল্পী কাজ করছে, তাদের কাজ দেখে কী মনে হয় আপনার?
তাজউদ্দীন: আগে তো ছেলেমেয়েরা যে কাজ করত, তা আবার দেখাতে আসত স্যারদের। বিশটা-ত্রিশটা কাজ একেবারে নিয়ে আসত। এমনও হতো, কেউ কেউ ট্রাকে করে নিয়ে আসত। স্যাররা কাজ দেখে বিরক্ত হয়ে যেত। এখন কি তেমনটা হয় কোথাও? আমি ঠিক জানি না কী হচ্ছে। যাওয়াও হয় না তেমন।

শিল্পপ্রভা: এখন যেমন নিউ মিডিয়া প্র্যাকটিস করছে আমাদের তরুণ শিল্পীরা। তারা বেশ ভালোও করছে। এই প্র্যাকটিস কীভাবে দেখেন?
তাজউদ্দীন: এটা অবশ্যই আমাদের জন্য ভালো। মিডিয়া তো কোনো ব্যাপার না, যে মিডিয়াই হোক, কাজ করাটাই আসল। আমার মনে হয় এই চর্চা আরও বাড়ানো উচিত। পৃথিবীতে কত রকমের কাজ হচ্ছে, না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারবে না। আমরা কখনো ওরকম করে ভাবিইনি।

শিল্পপ্রভা: কিছুদিন আগে লায়লা শারমিন, সৈয়দ ইকবাল এবং আপনি টরন্টোতে একটি শো করেছেন।
তাজউদ্দীন: এটি একটি সামার ফেস্টিভ্যাল ছিল। আমরা বিভিন্ন দেশের ১৬/১৭ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করেছিলাম। বাংলাদেশ থেকে আমরা তিনজন ছিলাম। দর্শকেরাও ছিল বিভিন্ন দেশের। মিডল ইস্টের অনেক শিল্পীর কাজ ছিল। ওদের কাজ আমার কাছে খুবই ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে।

শিল্পপ্রভা: অন্যান্য দেশের দর্শকদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পেয়েছিলেন?
তাজউদ্দীন: আমি তো অনেক দেশে গিয়েছি, শো করেছি। আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশের শিল্পীদের কাজ দেশে ও বিদেশে সর্বত্রই প্রশংসার দাবি রাখে। ইউনুসের কাজ আমার খুব দারুণ লাগে। চন্দ্র শেখরের পরে মমিনুর রেজা নামে একজন শিল্পী আছে, বগুড়া থাকে। এখন ও আসে না খুব একটা, সিনে নেই। কিন্তু খুব ভালো কাজ করে।

শল্পপ্রভা: এই যে একটা অভিমান করে সামনে না আসা, তার জন্য তো দর্শকেরা বঞ্চিত হচ্ছে।
তাজউদ্দীন: হলেও তো কিছু করার নেই। অনেকের হয়তো অনেক ক্ষোভ আছে। অনেক কষ্ট নিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছে। ছবি নিজের জন্য আমি আঁকি, দরকার নেই কাউকে দেখানোর। যেমন আমি তোমাকে বলি, সম্প্রতি শিল্পকলায় শুনেছি, ২৬০ জন শিল্পীর কাজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে আমাকে কেউ কিছু বলেওনি। যেন আমি থেকেও নেই সবার মাঝে। এ থেকে আমারও ক্ষোভ হতে পারে যে আমি আর ছবি দেব না শিল্পকলায়। এমন থাকতেই পারে। তারা একটু দূরে থাকতে চায়। এর আগেও এমন হয়েছে। হয়তো শিল্পকলা ভাবছে তাজউদ্দীন এখনো ম্যাচিউরড হয়নি। আরও বিশ বছর ছবি আঁকবে, তারপর শিল্পকলা কালেক্ট করার মতো ম্যাচিউরিটি আসবে।

শিল্পপ্রভা: আপনার সর্বশেষ প্রদর্শনী হয়েছিল গত জানুয়ারি মাসে। আপনার প্রদর্শনী দিয়েই উদ্বোধন হয়েছিল বে’জ গ্যালারির।
তাজউদ্দীন: আমার প্রদর্শনীর শিরোনাম ছিল ‘রি-ডিসকভারি’ খুঁজে পাওয়া। আমি প্রায় পনেরো বছর ধরে এই সিরিজের কাজগুলো করেছি। যখন শুরু করেছিলাম এরপর মোটামুটি দাঁড় করিয়ে ফেলেছিলাম কাজগুলো। এরপর একটা লম্বা গ্যাপ (৮/৯ বছরের) পড়ে যায় এই সিরিজে। এরপর আরও কিছু নিরীক্ষা চালিয়ে এ পর্যায়ে এসেছি। তো এই কাজগুলো করতে করতে আমি আরও কিছু মাধ্যম খুঁজে পেয়েছি। এটাকে আমি একটা মিডিয়াই বলব। কাজগুলো দেখতে প্রিন্টওয়ার্কের মতো কিন্তু আসলে প্রিন্ট না।

শিল্পপ্রভা: ওই কাজগুলো তো সবই নিরীক্ষাধর্মী ছিল।
তাজউদ্দীন: আমার ইচ্ছা আছে, আমি একটা ওয়ার্কশপ করাব। বাছাই করা কিছু তরুণ শিল্পীকে নিয়ে। এই টেকনিকটা আমি শিখিয়ে দেব তাদেরকে। ফর্মুলাটা কিছুটা দেব, যেন কেউ এটা ধরে রাখে। ওরাও হয়তো আরও নিরীক্ষা করবে। হয়তো ওরা আরও ভালো করবে।

শিল্পপ্রভা: এটা অনেক ভালো একটি চিন্তা। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
তাজউদ্দীন: আমি অনেক সাধনা করে, অনেক প্র্যাকটিস করে এই ফর্মুলাটা আয়ত্ত করেছি।

শিল্পপ্রভা: আপনার সব কাজ নিয়ে যে বইটি প্রকাশ হবার কথা রয়েছে, তা কবে আসছে?
তাজউদ্দীন: অক্টোবরের শেষ দিকে বইটি আলোর মুখ দেখবে বলে আশা করছি।

শিল্পী তাজউদ্দীন আহমেদ: কম্পোজিশন-২, তেলরং / ২০০৮, সংগ্রহ: ইস্টার্ন হাউজিং লিঃ

শিল্পপ্রভা: টিভোলি তো অনেক দিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটি গ্যালারি। আশির দশকে যখন বাংলাদেশের শিল্পবাজার বলতে কিছুই ছিল না, তখন এর হাল ধরার মতো সাহসী সিদ্ধান্ত কীভাবে নিয়েছিলেন?
তাজউদ্দীন: এটা তো অনেক পুরোনো একটি গ্যালারি। আশি সাল থেকে এটি আমি চালাচ্ছি। এর আগে শাহবাগের টিভোলি ফার্মেসি আর এই গ্যালারি ছিল একই মালিকানাধীন। স্বাধীনতার পরপর এই গ্যালারি শুরু হয়। স্বাধীনতার পর দুটি গ্যালারিই ছিল। একটা শাহবাগে জিরাজ আর্ট গ্যালারি আর এই টিভোলি আর্ট গ্যালারি। এরপর ১৯৮২-এর দিকে তিনি আর গ্যালারিটি চালাতে না পেরে বন্ধ করে দেবার সিদ্ধান্ত নেন, তখন আমি রেন্টে দুই বছর এটি চালাই। দুই বছর পর ১৯৮৪ সালে আমি এটি কিনে নিই। তখন তো ছবির মার্কেট ছিলই না। বিদেশিরা ছবি কিনত। বাংলাদেশিরা ছবি কেনে কয়েক বছর হলো। কিন্তু আমার মনে হলো একটা গ্যালারি চালাই তাতে শিল্পীরা উপকৃত হবে, আমিও উপকৃত হব। গ্যালারি না করে অন্য কিছু করলে হয়তো অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হতাম। কিন্তু আমি তা চাইনি।

শিল্পপ্রভা: আপনার কাজে কারও প্রভাব আছে বলে কি মনে করেন? বিশেষ করে আপনার প্রতিকৃতিগুলো দেখে আমার পিকাসোর কথা মনে হয়েছে।
তাজউদ্দীন: পিকাসো আমাকে দারুণভাবে আন্দোলিত করে। পিকাসো আমার খুব প্রিয় শিল্পী। ওর কাজ আমি খুব এনজয় করি। টরন্টোতে কিছুদিন আগে পিকাসোর একটি সলো শো হয়েছে। আমি সেখানে প্রতি সপ্তাহে তিন-চার দিন গিয়েছি। পিকাসোকে নিয়ে চলচ্চিত্র এবং ডকুমেন্টারিগুলো আমি প্রায়ই দেখি। এ ছাড়া ট্যাপিস, মোদিগ্ল্যানির কাজও আমাকে ভীষণ টানে।

শিল্পপ্রভা: আগে আপনি ছোট ছোট সারফেসে খন্ড খন্ড কাজ করতেন। কিন্তু এখন অনেক বড় সারফেসে কাজ করেন। বেশি ফ্রিডম বড় জায়গা। এই চেঞ্জটা কেন এলো আপনার মধ্যে?
তাজউদ্দীন: কাজ করতে করতে আসলে এমন হয়েছে। ছোট ক্যানভাসের কাজগুলো আমার কাছে এখন মিনিয়েচারের মতো মনে হয়। বড় ক্যানভাসে রং দিয়ে খেলতে আলাদা একটা মজা পাই।

শিল্পপ্রভা: এর কারণটা কি এই জন্য যে আপনি অভিবাসী হয়ে কানাডা চলে গেলেন ওইখানের বিস্তৃত ভূমি, বিশাল আকাশ, উঁচু দালান, বিশাল লেক - এগুলো কি কোনো প্রভাব ফেলে? কিংবা পুরান ঢাকার ল্যান্ডস্কেপের সঙ্গে কানাডার ল্যান্ডস্কেপের যে ফারাক, তা কি অনুভব করেন?
তাজউদ্দীন: হ্যাঁ, তা-ও হতে পারে। আমি এমনটাও ভেবেছি। উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েই তো আমাদের জীবন। এর মধ্য দিয়েই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও পাল্টে যায়।

শিল্পী তাজউদ্দীন আহমেদের ওয়েবসাইটের ঠিকানা: http://artisttajuddin.com